শুষ্ক ত্বকের কার্যকরী হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা ও মেডিসিন

শুষ্ক ত্বকের কার্যকরী হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা ও মেডিসিন

ত্বকের শুষ্কতা বা শুষ্ক ত্বক রোগটি কি ?

ত্বকে যখন পর্যাপ্ত আর্দ্রতার অভাব হয় তখন ত্বক অনেকটা শুকিয়ে যায় ৷ অর্থাৎ ত্বকের অাদ্রতা কমে গিয়ে শুষ্ক হয়ে যাওয়াকে ড্রাই স্কিন বা শুষ্ক ত্বক বলে। এটি চিকিৎসাবিজ্ঞানে জেরোসিস নামেই পরিচিত ৷ প্রক়তপক্ষে ত্বকের শুষ্কতা আসলে মারাত্মক কোনো রোগ নয় ৷ তবে শুষ্ক ত্বকের কারনে নানা ধরনের পারিপার্শিক সমস্যা ঘটে থাকে ৷ এর ফলে ত্বকে স্কেলিং, ক্যাক্রিং এবং চুলকানির মতো রোগ হতে পারে ৷ যার ফলে সহজেই কেউ অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সম্মূখীন হতে পারেন ৷ ত্বকের তৈলাক্ত ভাব কমে গিয়ে স্বাভাবিকভাবেই আপনার ত্বক শুষ্ক হতে পারে। এটি ত্বকের ধরন বা বয়সের উপরও নির্ভর করে ৷

শুষ্ক ত্বক কত ধরনের হতে পারে ?

অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় ত্বকের শুষ্কতা অনেকটাই অস্থায়ী ৷ তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে সেটি দীর্ঘ সময় ধরে একনাগাড়ে থাকতে পারে ৷ কোনো ক্ষেত্রে শীতকাল বা গরমকালে বিশেষ করে ত্বকে এ ধরনের সমস্যা হয় ৷ তবে এটি এক বছরের বেশি সময় ধরেও থাকতে পারে। গবেষনায় দেখা গেছে শুষ্ক ত্বক সাধারণত কয়েক প্রকারের হয়ে থাকে ৷

শুষ্ক ত্বক ধরনগুলি কি কি ?

অ্যাথলেট ফুটঃ পায়ের অ্যাথলেট অংশে কখনো কখনো শুষ্কতা অনুভব হয়। এই সমস্যা সাধারণত কিছু ফাংগাল ইনফেকশনের জন্য হয়ে থাকে।

কন্ট্যাক্ট ডার্মাটাইটিসঃ কখনো কখনো ত্বক এমন কিছু বস্তুর সংস্পর্শে আসে যা থেকে এলার্জিক রিএকশন হতে পারে। এক্ষেত্রে ত্বক শুষ্ক ও লালচে এবং ত্বকে চুলকানি হতে পারে। এটা সাধারণত জুয়েলারির মেটাল, ডিটারজেন্ট,মেকআপ কিছু ওষুধ থেকে হয়।

সেবরিক ডার্মাটাইটিসঃ যখন আপনার মাথার ত্বক রুক্ষ শুষ্ক হয় তখন মাথায় খুশকি হয় (শিশুদের ক্ষেত্রে এটাকে ক্রাডেল ক্যাপ বলে)। এটা আপনার হাত-পা, কুচকি, মুখ অথবা নাভীতেও হতে পারে।

অ্যাটোপিক ডার্মাটাইটিস: অ্যাটোপিক ডার্মাটাইটিস একজিমা নামেও পরিচিত। এটা ত্বকের একটা দীর্ঘমেয়াদি অবস্থা যাতে ত্বকের উপর রুক্ষ এবং সুক্ষ রেখা সদৃশ্য হয়। অল্পবয়সী বাচ্চাদের ক্ষেত্রে এই রোগ বেশী দেখা যায়।

ত্বকের শুষ্কতা কেনো হয় ?

সাবানের ব্যাবহার: ত্বকের কারণ ত্বক থেকে প্রচুর পানি এবং তেল বের হয়ে যাওয়াই ত্বকে শুষ্কতার কারণ। ক্ষারযুক্ত সাবান এবং ডিটারজেন্ট: সাবান এবং ডিটারজেন্ট আমাদের আমাদের ত্বক থেকে তেল দূর করে দেয়। সুতরাং এগুলো ত্বকের সমস্ত আদ্রর্তা দূর করে ত্বককে ড্রাইও করে তুলতে পারে।

তাপমাত্রা: তাপের উৎস থেকে নির্গত তাপ যেমন কাঠের চুলা, ফায়ারপ্লেসের আগুন একটা কক্ষের আর্দ্রতা হ্রাস করে দিতে পারে এবং স্কিনকে রুক্ষ করে দিতে পারে।

গরম পানিতে স্নান: বেশি গরম পানিতে দীর্ঘসময় স্নানের ফলে আপনার স্কিন শুষ্ক হয়ে যেতে পারে।

অন্যান্য কারণ: যাদের সোরাসিস এবং একজিমা থাকে তাদের ত্বক ড্রাই হতে পারে।
ঘরে এয়ার কন্ডিশনার বা রুম হিটার ব্যাবহারের ফলে রুমের আর্দ্রতা কমে ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়।

সুইমিং পুল: সুইমিংপুলে ক্লোরিন নামক এক ধরনের কেমিক্যাল ব্যবহার করা হয় যা জলকে পরিষ্কার রাখে। ক্লোরিন এর জন্যও  স্কিন ড্রাই হতে পারে।

আবহাওয়া: শীতকালে বাতাসের আর্দ্রতা এবং তাপমাত্রা নিচে নেমে যায় যার ফলে পরিবেশ শরীর থেকে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা শুষে নেয়। সেই কারণে স্কীন ড্রাই হতে পারে।

নির্দিষ্ট কিছু ওষুধ: এন্টিবায়োটিক জাতীয় কিছু ওষুধ নিয়মিত সেবনের ফলে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসাবে স্কিন ড্রাই হয়ে যায়।

ভিটামিনের অভাব: স্কিনের সুস্থ থাকার জন্য পুষ্টি দরকার। যদি আপনি পর্যাপ্ত ভিটামিন এ, ডি, জিংক, আয়রণ না পান তাহলে আপনার ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়।

ডায়াবেটিস, কিডনী রোগ অথবা থাইরয়েড সমস্যা: এই রোগগুলি আপনার স্কিন ড্রাই হওয়ার উপর একটা বড় প্রভাব ফেলে।

ডায়ালাইসিস: যখন ডায়ালাইসিস চলে তখন শরীর থেকে সব পানি বের হয়ে যায়। তখন এটা ত্বকের শুষ্কতার কারণ হতে পারে। এজন্য ডায়ালাইসিসের সময় শরীরে পানির সাম্যতা বজায় রাখার চেষ্টা করা হয়।

ক্যান্সার ট্রিটমেন্ট: ক্যান্সার ট্রিটমেন্টের কেমোথেরাপির ফলে নির্গত রেডিয়েশনের জন্য স্কিন ড্রাই হয়ে যায়।

এইচআইভি: এইচআইভি আক্রান্ত ব্যাক্তিদের মধ্যে প্রচুর পরিমানে এই সমস্যা দেখা যায়।

রিস্ক ফ্যাক্টর: যদিও ড্রাই স্কিন সবার জন্য একটি কমন সমস্যা, কিন্তু কিছু কন্ডিশন এর উপর ভিত্তি করে এগুলা আড়োও বাড়তে পারে। নিম্নলিখিত কারণের উপর ভিত্তি করে স্কিন ড্রাই হতে পারে ৷
বয়স: বয়স ত্বকের শুষ্কতার একটি অন্যতম কারন ৷ আপনার বয়স যদি ৪০ বা ৪০ এর বেশি হয় তাহলে আপনার স্কিন ড্রাই  হওয়ার একটি বিশাল সম্ভাবনা আছে। প্রায় ৫০ শতাংশ ক্ষেত্রে বয়স্কদের স্কীন ড্রাই হয়ে থাকে।

বসবাসের জায়গা: আপনি যদি পর্যাপ্ত আর্দ্রতা বিহীন কোন ঠান্ডা এবং শুষ্ক জায়গায় থাকেন তাহলে এই সমস্যা হতে পারে।

পেশা: যদি আপনি এমন কোন কাজ করেন যেখানে আপনার ত্বক সারাক্ষণ ভেজা অবস্থায় থাকে তাহলে স্কিন শুষ্ক হতে পারে। সুইমিং ইনস্ট্রাক্টর এবং হেয়ার স্টাইলিস্ট এর ত্বক সাধারণত শুষ্ক হয়।

জিনগত কারণ: কিছু মানুষের ত্বকে শুষ্কতা তাদের পিতামাতা থেকে আসে।

ত্বকের শুষ্কতার লক্ষণসমূহ কি কি ?

খসখসে, রুক্ষ, অমসৃণ ত্বক মানেই শুষ্ক ত্বকের লক্ষণ। ড্রাই স্কিন সাধারণত অস্থায়ী হয় কিন্তু এটা দীর্ঘ সময় ধরে হতে পারে। লক্ষণ গুলো সাধারণত আপনার স্বাস্থ্য, বয়স,বসবাসের জায়গা,বাইরে থাকার সময় এবং সমস্যার কারণের উপর নির্ভর করে। শুষ্ক ত্বকে নিম্নলিখিত এক বা একাধিক লক্ষন থাকতে পারে ৷

গোসল বা সাঁতারের পর আপনার ত্বকে টানটান অনুভূতি হয়।
চুলকানি হয় (প্ররিটাস)।
অল্প থেকে অনেক বেশি স্পেলিং, পিলিং বা ফ্লেকিং হয়।
ধূসর বিবর্ণ ত্বক।
লালচে ভাব।
গভীর ফাটল যা থেকে রক্তপাত হয়।
ত্বক দেখতে রুক্ষ লাগে এবং অনুভব হয়।
ডিহাইড্রেশন।
ত্বকে ব্যাথা এবং কাটাযুক্ত অনুভূতি।
বলিরেখা দেখা যায়।
স্কিনে ইনফেকশন হয়।

ত্বকে শুষ্কতার জটিলতাসমূহ কি কি ?

শুষ্ক ত্বক সাধারণত ক্ষতিকর হয়না। কিন্তু ঠিক মত যত্ন না নিলে এটা একজিমাতে রূপ নিতে পারে।  এর ফলে লালচে ভাব, প্রদাহ, রোগের উৎপত্তি হতে পারে। ড্রাই স্কিনে ফাটল ধরে। তার ফলে ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ হতে পারে।

প্রতিরোধঃ শুষ্ক ত্বক রোধের জন্য কোন কার্যকরী প্রতিরোধ এখনো আবিষ্কৃত হয়নি। তবে কিছু বিষয় অনুসরণ করা যেতে পারে:
অল্প সময় ধরে গোসল।
গোসলে অতিরিক্ত গরম পানি ব্যবহার করা যাবেনা। উষ্ণ গরম পানি ব্যবহার করতে হবে।
অল্প সময় সাবান ইউজ করা।
দিনে অন্তত একবার তেল এবং ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা উচিত।
গোসলের পর আস্তে ভালভাবে মুখ ড্রাই করতে হবে।
ভারী ময়েশ্চারাইজার ব্যাবহার করা ভালো।
এলকোহলযুক্ত দ্রব্য এড়িয়ে চলতে হবে।
পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে।
তাজা ফলমূল শাকসবজি খেতে হবে।
গ্লাভস পরিধান করা।
খসখসে কাপড় পরিধান করা যাবেনা।
লিপ বাম ব্যাবহার করা।
ক্ষারযুক্ত সাবান ও ডিটারজেন্ট পরিহার করতে হবে।

হোমিওপ্যাথিকে শুষ্ক ত্বকের চিকিৎসাপদ্ধতি

প্রাথমিক চিকিৎসাঃ হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার মাধ্যমে প্রাকৃতিকভাবে ত্বকের শুষ্কতা দূর করা যায়। যেহেতু হোমিওপ্যাথিক রেমেডিগুলোর উৎস প্রাকৃতিক তাই এই রেমেডিগুলো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও বিষমুক্ত। এর সাহায্যে সমস্যাগুলি সমূলে দূর করা যায়।

শুষ্ক ত্বকের হোমিওপ্যাথিক ঔষধগুলি কি ?

Arsenicum Album: আর্সেনিকাম অ্যালবাম উচ্চতাপমাত্রায় লোহা,কোবাল্ট,নিকেল থেকে আর্সেনিক সেপারেশনের মাধ্যমে তৈরী করা হয়। এই রোগে রোগীর ত্বকে তীব্র চুলকানি,জ্বলুনী,শুষ্ক হয়।চুলকানীর ফলে ত্বকের অবস্থা আরও খারাপ হয় এবং উষ্ণতা প্রয়োগের ফলে সাময়িক আরাম পাওয়া যায়। ব্যাথা এবং জ্বলনের সাথে বদহজমও লক্ষ করা যায়। এইসব ক্ষেত্রে Arsenicum Album প্রেসক্রাইব করা হয়।

Calcarea Carbonica: এটি  সাধারণত শামুকের মিডিল লেয়ার থেকে তৈরী হয়। রাসায়নিক ভাবে ক্যালসিয়াম কার্বনেটের তৈরী নির্যাস। যাদের হাত পায়ে চিটচিটে ভাব,ত্বকে ফাটল এবং জ্বালা হয়( বিশেষ করে শীতকালে) তাদের জন্য সাজেস্ট করা হয়। এইসব রোগীরা অতি অল্প পরিশ্রমেই ক্লান্ত হয়ে পড়ে।

Graphites: যে ব্যাক্তিদের ত্বকে ফাটল বা অতিরিক্ত ব্যথা থাকে বা যাদের একটা দীর্ঘ সময় স্কিন ইনফেকশন আছে তাদের ক্ষেত্রে এই রেমেডি ভালো কাজ করে। কানের পিছনে, মুখের চারপাশে অথবা হাতে প্রায় সময় ফাটল থাকে এবং এই ফাটল থেকে সোনালী বর্নের এক ধরনের তরল নির্গত হয়। স্ক্র‍্যাচিং এর ফলে ওই জায়গার অবস্থা আরও খারাপ হয়। ফাটল থেকে রক্তপাতও হতে পারে। বিশেষ করে সকালের দিকে চুলকানোর ঝোক বেশি থাকে। এইসব রোগীদের ক্ষেত্রে Graphites ব্যবহৃত হয়।

Hepar sulphuris calcareum: সাধারণত যাদের সেন্সিটভ স্কিন, খুব সহজেই ইনফেক্টেড হয়, একজেমা সহ স্কিনে প্রচুর ব্যথা থাকে তাদের ক্ষেত্রে এই ওষুধ নির্দেশিত হয়। ত্বকে, বিশেষ করে হাত ও পা খসখসে এবং গভীর ক্ষত হয় যা সারতে খুব সময় নেয়। এইসব রোগীদের ক্ষেত্রে এই রেমেডি কার্যকরী।

Rhus toxicodendron: একজিমা রোগী, যাদের ঘনঘন চুলকানী, ত্বক লালচে এবং বিবর্ণ হয়ে যায় তাদের ক্ষেত্রে এই রেমেডি খুব কার্যকর। গরম সেক এইসব ক্ষেত্রে আরামদায়ক। রোগী অস্বস্তিকর অবস্থা থেকে কখনো বিরতি পায়না। পেশীগুলো দুর্বল হয়ে যায়। তখন Rhus toxicodendron প্রেস্ক্রাইব করা হয়।

Sulphur: খনিজ সালফার থেকে হোমিওপ্যাথি রেমেডি সালফার তৈরী করা হয়। বিরতিহীন জ্বলুনী, প্রদাহ, চুলকানী (গরম সেক এবং স্নানের ফলে অবস্থার মারাত্মক অবনতি হয়) এসব ক্ষেত্রে সালফার সাজেস্ট করা হয়। আক্রান্ত স্থান লালচে, শক্ত এবং ফুসকুড়িযুক্ত হতে পারে। যেসব ব্যক্তিরা একজিমার জন্য ওষুধ সেবন করেও ভালো ফলাফল পাচ্ছেনা তাদের জন্যও এটি ব্যবহৃত হয়।

Petroleum: পেট্রোলিয়াম এমন এক ধরনের জৈব তরল যা পৃথিবীর নিচে পাওয়া যায় এবং রিফাইন করা হয়। যাদের স্কিন মারাত্মক ড্রাই এবং হাতের তালু ও আঙুলের মাঝে ফাটল দেখা যায় তাদের ক্ষেত্রে পেট্রোলিয়াম ব্যবহার করা হয়। শীতকালে এটা আরও খারাপ হয়। আক্রান্ত স্থানে গভীর, কালচে ক্ষত এবং প্রায় রক্তপাত হয়। চুলকানো পরে ঠান্ডা অনুভুতি হয়। রাতে চুলকানী মাত্রা বাড়তে পারে। স্কিন সহজেই ইনফেক্টেড হয়।

Alumina: অ্যালুমিনা রাসায়নিক যৌগ অ্যালুমিনিয়াম এবং অক্সিজেনের তৈরী।  ড্রাই বা খসখসে স্কিনের জন্য এলুমিনিয়া আরেকটি কার্যকরী ওষুধ। এই রোগীদের বিছানায় যাওয়ার পর অসহ্যকর চুলকানী হতে পারে। রোগী ফাটল থেকে রক্তপাত না হওয়া পর্যন্ত চুলকাতে থাকে এবং এর ফলে ব্যাথা হয়। আঙুল ভঙুর হয়ে যায়।

Bryonia Alba: শুষ্ক এবং খসখসে ঠোটের জন্য ব্রায়োনিয়া খুবই কার্যকরী রেমেডি। ঠোটে ফাটল দেখা গেলে ব্রায়োনিয়া প্রয়োগের ম্যাধ্যমে আরোগ্য লাভ করা যায় ও ঠোট আবার আগের মত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।রোগীরা ঠান্ডা পানির জন্য প্রচন্ড তৃষ্ণা অনুভব করে।

Malandrium: হাত এবং পায়ে ফাটলে জন্য ম্যালান্ড্রিয়াম একটি আদর্শ প্রাকৃতিক ওষুধ। শীতকালীন এসব ফাটলের জন্য ম্যালান্ড্রিয়াম খুবই কার্যকরী।

Nux Moschata: মিউকাস মেমব্রেন এবং ত্বকে এক্সট্রিম পর্যায়ের ড্রাইনেসের জন্য নাক্স মসছাটা আদর্শ ওষুধ।জিহবা দিয়ে মুখের উপরিভাগে স্পর্শ করলে সেখানে শুকনা অনুভূত হয়।

Cicuta Virosa: Cicuta হলো Umbelliferae পরিবারের একটি বিষাক্ত উদ্ভিদ থেকে তৈরী একধরনের হোমিওপ্যাথিক রেমেডি। একজিমা থেকে এক ধরণের হলদে বর্ণের তরল নিঃসৃত হয় এবং এর দ্বারা গলা, চিবুক, মাথার তালু আক্রান্ত হয়। সেসব ক্ষেত্রে cicuta virosa আদর্শ হোমিওপ্যাথিক রেমেডি।

Sarsaparila: সাধারণত বলিরেখা এবং রুক্ষ ত্বকের ক্ষেত্রে সারসাপারিলা ব্যবহৃত হয়। রোগী এক্ষেত্রে ত্বক স্পর্শ করার পর রুক্ষ ও শুষ্ক অনুভব করে। এছাড়াও ত্বকে বলিরেখারও অভিযোগ করেন তারা। সারসাপারিলা ত্বকে স্বাভাবিক স্মুদনেস ফিরিয়ে আনে।

Lycopodium Clavatum: তীব্র চুলকানি, দীর্ঘসময়ের একজিমার সাথে গ্যাস্ট্রিক ও ইউরিনের সমস্যার জন্য লাইকোপডিয়াম ক্লাভাটাম সাজেস্ট করা হয়। এই রোগের ক্ষেত্রে রোগীর ত্বক পুরু এবং শক্ত হয়ে যায়। লাইকোপডিয়াম ব্যবহারের ফলে ত্বকের স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসে।

Psorinum: এক ধরনের অ্যালকোহলীয় নির্যাস থেকে তৈরী হয় সোরিয়াম। কানের পিছনে একজিমা, ড্রাই স্কিনের ফলে অসহ্য চুলকানীর জন্য হোমিওপ্যাথিক রেমেডি সোরিনাম প্রেস্ক্রাইব করে ত্বকের স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনা হয়।

Radium Bromatum: শুষ্ক,রুক্ষ ত্বকের প্রদাহ,জ্বলন, ফুসকুড়ি এসব ক্ষেত্রে রেডিয়াম ব্রোমাটাম কার্যকরী ওষুধ।

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ এখানে উল্লিখিত ওষুধগুলি শুধুমাত্র তথ্যের উদ্দেশ্যে।  দয়া করে ডাক্তারের পরামর্শ ব্যাতীত নিজে ওষুধ খাবেন না।

Leave a Reply