অনিয়মিত মাসিকের কার্যকরী হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা ও মেডিসিন

অনিয়মিত মাসিকের কার্যকরী হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা ও মেডিসিন

অ্যামেনোরিয়া বা অনিয়মিত মাসিক কি?

মেয়েদের বয়ঃসন্ধিকাল থেকে মেনোপজ পর্যন্ত সময়ের দীর্ঘ সময় মাসিক চক্রের অনুপস্থিতিকে অ্যমেনোরিয়া বলা হয় । ৯ থেকে ১৫ বছরে মেয়েদের স্বাভাবিক মাসিক চক্র শুরু হয়ে থাকে ৷ তবে এই বয়ঃসন্ধিকাল এলাকাভেদে ভিন্ন হতে পারে। প্রথম ঋতুচক্রের পর থেকে নিয়মিত ভাবে প্রতি মাসেই মাসিক দেখা যায় ৷ যতক্ষণ না নারী মেনোপজ পর্যায়ে পৌঁছান তার আগ পর্যন্ত এটি স্বাভাবিকভাবেই চলতে থাকে ৷ তবে মেনোপজে পৌছানোর পর থেকে স্বাভাবিকভাবেই নারীদের মাসিক বন্ধ হয়ে যায়। সাধারণত, ৪৫ বছর বয়সের কাছাকাছি মেনোপজ ঘটে থাকে । যখন বয়ঃসন্ধি ও মেনোপজ পর্যায়ের মাঝে নারীর পরপর প্রায় তিন মাস অথবা তিন মাসেরও বেশি সময় মাসিক বন্ধ থাকে তাকে অ্যামেনোরিয়া বলা হয় ৷ অ্যামেনোরিয়ার ক্ষেত্রে হোমিওপ্যাথিক ওষুধ নিরাপদ ও প্রাকৃতিকভাবে হরমোনাল ব্যালেন্সের মাধ্যমে নারীদের মাসিক নিয়মিত করতে সাহায্য করে থাকে ৷ আমেনোরিয়া প্রকৃতপক্ষে নিজে কোন রোগ নয় , এটির বেশ কিছু কারণ রয়েছে বা অন্য রোগের উপসর্গ ৷ এটি গর্ভাবস্থায় এবং স্তন্যপান করানোর সময় ঘটতে পারে। এছাড়া স্বাস্থ্য বা শরীরের বিভিন্ন ফাংশনের কর্মক্ষমতার দরুনও অনিয়মিত মাসিক হতে পারে ৷

অ্যামেনোরিয়া বা অনিয়মিত মাসিক এর কারণগুলি কী কী?
সাধারণত প্রাথমিক অনিয়মিত মাসিক এর পাশাপাশি আরও কিছু গৌণ কারনে অনিয়মিত মাসিকের সমস্যা হয়ে থাকে ৷ এটিকে আমরা দুই ভাগে ভাগ করে নিতে পারি ৷

প্রাথমিক অ্যামেনোরিয়াঃ যেসব নারীদের ১৬ বছর বয়স হয়ে গেলেও ঋতুচক্র শুরু হয়নি সেটিকে প্রাথমিক অ্যামেনোরিয়া হিসাবে গন্য করা হয় । হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় এটি সম্পূর্ণ ভালো হয়ে যায় ৷

প্রাথমিক অ্যামেনোরিয়ার কারণগুলি কি ?

জরায়ু বা ফ্যালোপিয়ান টিউবের অনুপস্থিতির কারনে অথবা মহিলাদের প্রজনন অঙ্গের কোনো অস্বাভাবিক গঠন ।

যোনি অ্যাট্রেসিয়া : এটি অনিয়মিত মাসিকের অন্য একটি কারণ যাতে নারীর যোনি অস্বাভাবিকভাবে অনুপস্থিত বা বন্ধ থাকে ৷

পিটুইটারি গ্রন্থির সমস্যা
অকাল ডিম্বাশয়
অ্যান্ড্রোজেন সংবেদনশীলতা
অপূর্ণ হাইমেন : স্বাভাবিক অবস্থায়, যোনি হাইমেন নামক একটি পাতলা ঝিল্লি দ্বারা বেষ্টিত থাকে যার কেন্দ্রে একটি ছোট প্রারম্ভিক ছিদ্র থাকে। অপূর্ণ হাইমেনগুলির ক্ষেত্রে ঝিল্লিতে প্রারম্ভিক ছিদ্রটি অনুপস্থিত থাকে এবং এটি যোনি ছিদ্রকে বন্ধ করে দেয়।
টার্নার সিন্ড্রোম : এই অবস্থায় দুটি এক্স ক্রোমোজোমের একটির কিছু অংশ বা সম্পূর্ণটির অভাব দেখা দিতে পারে এবং জরায়ুতে কোনো ক্ষত থাকলে সেটি টিস্যু দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয় ও ইস্ট্রোজেনের উৎপাদন কমিয়ে দেয় যার ফলে অনিয়মিত মাসিকের মত সমস্যা দেখা দিতে পারে ।

গৌণ অ্যামেনোরিয়াঃ যদি আপনার নিয়মিত মাসিক হয় কিন্তু কিছু সময়ের পরে যদি আপনার মাসিক সরাসরি ৩ মাস বা তার বেশী সময়ের জন্য বন্ধ থাকে,তবে এটি গৌণ অ্যামেনোরিয়া বা গৌন অনিয়মিত মাসিক হিসাবে পরিচিত।

গৌণ অ্যামেনোরিয়া বা অনিয়মিত মাসিকের কারণগুলি কি ?

পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিন্ড্রোম (পিসিওএস) এর অন্যতম প্রধান কারণ।

জন্ম নিয়ন্ত্রণের বড়ির ব্যাবহার ৷
নির্দিষ্ট ধরণের কিছু আইইউডি ব্যবহার ৷
কিছু ওষুধ আছে যা আমেনোরিয়া সৃষ্টি করতে পারে ৷ যেমন (এন্টিডিপ্রেসেন্টস, অ্যান্টিসাইকোটিকস এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণকারী বিভিন্ন অ্যালোপ্যাথিক ওষুধ) ৷
থাইরয়েড ফাংশনের জটিলতা ৷
স্ট্রেস বা মানসিক দুশ্চিন্তা ৷
বিষণ্ণতায় ভোগা ৷
অতিরিক্ত ওজন কমানো বা ডায়েটিং ৷
হঠাৎ ওজন বেড়ে যাওয়া ৷
খাওয়ার ব্যাধি (অ্যানোরেক্সিয়া বা বুলিমিয়া)
খাবারে পুষ্টি উপাদানের অপ্রতুলতা ৷
কড়া শারীরীক অনুশীলন ৷
ডিম্বাশয়ে টিউমার ৷
জরায়ুতে দাগ কাটা / আঠালো রসে ভর্তি থাকা ৷
পিটুইটারি টিউমার ৷
জরায়ু বা ডিম্বাশয়ের সার্জারি বা অপসারন এর কারণেও অনিয়মিত মাসিক হতে পারে ৷
রোগীর পারিবারিক ইতিহাস ৷
অকাল মেনোপজের কারণে অনিয়মিত মাসিক হতে পারে ৷ মেনোপজের সাধারণ বয়স প্রায় ৪৫ এর কাছাকাছি এবং যদি এটি ৪০ বছরের আগে ঘটে তবে তাকে অকাল মেনোপজ বলা হয়।

কিছু শারীরবৃত্তীয় কারনে ঋতুচক্র বন্ধ হয়ে যেতে পারে, বিশেষ করে মহিলাদের গর্ভাবস্থায়, বুকের দুধ খাওয়ানো এবং মেনোপজের মতো অবস্থায় মাসিকে অনিয়মিততা দেখা দিতে পারে ।

অ্যামেনোরিয়ার বা অনিয়মিত মাসিকের হোমিওপ্যাথিক লক্ষণগুলি কী কী?

মাসিক একেবারে বন্ধ না অনিয়মিত ইত্যাদির কারণে শরীরে নানা উপসর্গ দেখা দিতে পারে ৷

মাথা ব্যথা
ব্রণ (পিম্পলস)
কোমরে ব্যথা
স্তনবৃন্ত থেকে দুধ স্রাব
চুল ঝরে যাওয়া ৷
মুখে লোম গজানো ৷
দৃষ্টি শক্তিহীনতা ৷

অনিয়মিত মাসিক সম্পর্কিত হোমিওপ্যাথিক ওষুধঃ

হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার সাহায্যে গৌণ অ্যামেনোরিয়াতে বা অনিয়মিত মাসিকে ভোগা মহিলাদের একটি পূর্নাঙ্গ ও প্রাকৃতিক চিকিৎসা করা যেতে পারে । হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় মাসিক বন্ধের মূল কারণটিকে নির্মূল করে প্রতিকার করা হয় বিধায় রোগী পূর্ণ আরোগ্য পায় ৷ হোমিওপ্যাথিতে ন্যাচারালি এই ঔষধগুলি পেলভিক ব্যথা, চুল পড়া, মুখের চুল, স্তনের থেকে দুধস্রাব, মাথা ব্যথা এবং ব্রণ (পিম্পলস) সহ মাসিকের সাথে সম্পর্কিত লক্ষণগুলিও পরিচালনা করে। হোমিওপ্যাথিক ঔষধগুলি ও চিকিৎসা পদ্ধতি প্রাকৃতিক উৎস্য থেকে সংগৃহীত হওয়ায় এটি সম্পূর্ন পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ামুক্ত।

Pulsatilla – পালসেটিলা অ্যামেনোরিয়ার বা অনিয়মিত মাসিকের একটি শীর্ষস্থানীয় হোমিওপ্যাথি ওষুধ।
‘Pulsatilla Nigricans’ নামক এক ধরণের উদ্ভিদ থেকে Pulsatilla উৎপাদিত হয় ৷ সাধারণত এটি এয়ার ফ্লাওয়ার নামে পরিচিত। এটি Ranunculaceae পরিবারের সাথে সম্পর্কিত।অনিয়মিত মাসিকের ক্ষেত্রে এটি খুব উপকারী।যেসব মহিলারা প্রায় মাসিক মিস করে তাদের জন্যও এই ওষুধের পরামর্শ দেয়া হয়। এই ক্ষেত্রে, মহিলাদের সবসময় দেরিতে মাসিক হয়। তাছাড়া মাসিকে সল্প স্রাব থাকে ৷প্রাকৃতিকভাবে মাসিকের রক্তক্ষরণ জমাট, কালো, জলযুক্ত বা পাতলা হতে পারে। অনিয়মিত মাসিকের কারণে রোগীর মাথা যন্ত্রণাও থাকতে পারে । বয়ঃসন্ধিকাল থেকে বেদনাদায়ক মাসিক হতে পারে। ঋতুস্রাবের সময় বমি বমি ভাব, হঠাৎ ব্যাথা এসে আবার চলে যাওয়া উপস্থিত থাকে। পালসেটিলার রোগী অ্যামেনোরিয়ার সময় স্তনবৃন্ত থেকে দুগ্ধ স্রাবের অভিজ্ঞতাও পেতে পারেন । সাথে মুখমন্ডল , ঘাড়, গলাতে ব্রণ থাকতে পারে ৷ হোমিওপ্যাথিক ঔষধ পালসেটিলা কেবল পিরিয়ডগুলিকে নিয়মিত করে না, হরমোনের গন্ডগোল কেও কার্যকরভাবে সংশোধন করে।

Sepia – অনিয়মিত মাসিকের জন্য আরেকটি দরকারী হোমিওপ্যাথি ওষুধ হচ্ছে সেপিয়া ৷
হোমিওপ্যাথিক ওষুধ Sepia হ’ল অ্যামেনোরিয়ার অন্যতম প্রধান হোমিওপ্যাথি ওষুধ।এই ওষুধেও Pulsatilla’র মতো হরমোন ভারসাম্যহীনতা সংশোধন করার ক্ষমতা রয়েছে। এই হোমিওপ্যাথিক ঔষধটির রোগী বহু মাস ধরে মাসিক বন্ধের অভিযোগ করেন। অনেক সময় তার বছরে তিনবার মাসিক হয়। মাসিকের অতীত ইতিহাসে সল্প পরিমানে রজস্রাব নির্গত হয় ৷ মাসিক হওয়ার আগে পেটে তীব্র ব্যথা হয়। মুখে ব্রণ দেখা দেয়। তদুপরি, পিরিয়ডের আগে দুঃখবোধ আরও একটি প্রধান লক্ষণ। এই প্রতিকারের আরও একটি বৈশিষ্ট্যযুক্ত লক্ষণ রয়েছে যা হ’ল কোমরে তীব্র ব্যাথা। যোনি থেকে মাসিকের পরিবর্তে যোনিস্রাব হওয়ার সময়ও সেপিয়া ব্যাবহারে সুফল পাওয়া গিয়েছে ৷ রোগীরা উপরের লক্ষণগুলির সাথে মুখমন্ডলে অবাঞ্ছিত চুল দেখা দিতে পারে ৷

Senecio Aureus – অল্প বয়সী মেয়েদের অনিয়মিত মাসিকের জন্য এই হোমিওপ্যাথিক ঔষধটি লক্ষনানুযায়ী ব্যাবহার করা হয়ে থাকে ৷
সেনেসিও ‘গোল্ডেন র‌্যাগওয়ার্ট’ উদ্ভিদ থেকে এটি উৎপাদিত হয়। উদ্ভিদটি Compositae পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। অল্প বয়সী মেয়েদের অ্যামেনোরিয়া বা অনিয়মিত মাসিক নিরাময়ের এটি একটি আদর্শ ঔষধ । রোগীর মাসিকের অনুভূতি হলেও রজস্রাব হয়না ৷ এই সময়ে কাঁধে ব্যথা বা বুকে চাপা ব্যথা অনুভব করে।

Joanesia Ashoka : কোনো কারনে মাসিক বাধাগ্রস্থ করলে বা সল্পমেয়াদী অনিয়মিত ঋতুস্রাবের জন্য এটি চমৎকার একটি হোমিওপ্যাথিক ঔষধ ৷
জনোশিয়া অশোকা মূলত ‘Ashoka’ নামক ভারতীয় একধরনের ঔষধী গাছের ছাল থেকে উৎপাদিত হয়।উদ্ভিদটি Caesalpiniodae পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। এটি প্রাচীন প্রাকৃতিক কাল থেকে আমেনোরিয়া , মাসিকজনিত সমস্যা এবং খুব কম মাসিক নিরাময়ের জন্য বহুল ব্যবহৃত একটি প্রাকৃতিক ঔষধ । হোমিওপ্যাথিতে এটি অনিয়মিত মাসিক, বন্ধ মাসিক এবং সংক্ষিপ্ত সময়ের মাসিক সহ একই উদ্দেশ্যে কাজ করে। এই ওষুধের রোগীও মাসিক বন্ধের কারণে মাথাব্যথার অভিযোগও করে। অল্প মাসিকের কারণে তলপেট, পিঠে ব্যথা, মাথা এবং উরুতে ব্যথা থাকলে এটি ব্যাবহারে ভালো ফলাফল মেলে ৷

Ignatia : দুঃখবোধ থেকে মাসিক বন্ধের ক্ষেত্রে হোমিওপ্যাথিক ইগ্নেশিয়া নামক ঔষধটি ব্যাবহার করা হয় ৷
ইগানাশিয়া নামক হোমিওপ্যাথিক ঔষধটি Ignatia Amaara নামক একটি উদ্ভিদ থেকে উৎপাদিত হয় যা st.Ignatius Bean নামেও পরিচিত। এটি লোগানিয়াসিয়ার পরিবারের অন্তর্গত। বন্ধ মাসিকের চিকিৎসার জন্য এটি সর্বোত্তম ওষুধ ৷ বর্তমান সময়ে মানুষের মাঝে একাকীত্বের প্রবনতা দেখা যায় ৷ তা থেকে দুঃখবোধ এবং সেটিকে দমন করার কারনে অনিয়মিত মাসিকের ক্ষেত্রে এটি বিস্ময়কর কাজ করে। ইগ্নেশিয়ার রোগীর মধ্যে তীব্র হতাশাগ্রস্ততা থাকে । যখন দুঃখের কারণে মাসিক বন্ধ থাকে তখন ইগনাশিয়া মাসিক প্রবাহ আনতে সহায়তা করে।

Natrum Mur – চুল পড়া সহ অনুপস্থিত মাসিকের জন্য ন্যাট্রাম মিউরেটিকাম ঔষধটি ব্যাবহৃত হয় ৷
অ্যামেনোরিয়া এবং চুল পড়ার ক্ষেত্রে নাট্রাম মিউর একটি আদর্শ ঔষধ । রোগীর মাসিক বন্ধ করা হয়।মাসিক দেরীতে হয় এবং প্রকৃতিকভাবে প্রচুর রজস্রাব ঘটে। মাসিকের প্রবাহ পাতলা, জলযুক্ত এবং ফ্যাকাশে হয়। মাসিকের আগে এবং পরে মাথা ব্যথা থাকে । উপরের বৈশিষ্ট্যগুলির সাথে চুল পড়া হ’ল একটি বিশিষ্ট লক্ষণ। যদি Ignatia ব্যর্থ হয়, হোমিওপ্যাথিক ঔষধ নাট্রাম মিউর দুঃখের কারণে হওয়া অনিয়মিত মাসিক সচল করতে কাজ করে।

ফসফরাস : স্তন্যবৃন্ত থেকে দুগ্ধ স্রাব সহ অনিয়মিত রজস্রাবের জন্য ফসফরাস একটি চমৎকার হোমিওপ্যাথি ঔষধ ৷
হোমিওপ্যাথিক ঔষধ ‘ফসফরাস’ এর রোগীর স্তনবৃন্ত থেকে দুগ্ধস্রাবের পাশাপাশি মাসিক অনুপস্থিত থাকে ৷ রোগীর খুব দেরীতে অতিরিক্ত মাসিক হয়। তাছাড়া , রজস্রাব স্বাভাবিক সময়কালের চেয়ে বেশী দীর্ঘস্থায়ী হয় । রজস্রাবের রং উজ্জ্বল লাল রঙের হয়ে থাকে । মাসিকের সময় ডিম্বাশয়ে ব্যথার সাথে তীব্র পিঠে ব্যথাও উপস্থিত থাকে। মাসিকের পরে রোগী প্রচণ্ড দুর্বলতা অনুভব করে।

গ্রাফাইটস : দেরীতে এবং অল্প সময় ধরে মাসিকের অনুপস্থিতিতে গ্রাফাইটিস নামক হোমিওপ্যাথিক ঔষধটি ব্যাবহার করা হয়ে থাকে ৷
যখন মাসিক বেশ দেরীতে হয় এবং নির্দিষ্ট মাত্রার থেকে রজস্রাব খুব কম হয় তখন গ্রাফাইটিস ব্যাবহৃত হয় । মাসিকের সাথে তীব্র ব্যাথাও থাকে ৷ মাসিকের রক্তের রঙ কখনও কখনও কালো এবং ঘন প্রকৃতির হয়। অনেক সময় রোগী যোনিতে জ্বালাপোড়া অনুভব করেন। দেরীতে মাসিকের কারণে এই ওষুধের রোগীর বাহুতে এবং পায়ে ভারী ভাব অনুভব করে থাকে ৷

Conium : দেরীতে মাসিক হওয়া এবং সল্পস্থায়ী মাসিকের ক্ষেত্রে কোনিয়াম একটি শ্রেষ্ঠ হোমিওপ্যাথিক ঔষধ ।

এটি মহিলাদের অনিয়মিত রজস্রাবের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ঔষধ । রোগীর মাসিক দেরীতে ও অল্প সময়ের জন্য স্থায়ী হয়। মাসিকের রক্ত জমাট বেঁধে থাকে এবং স্বল্পস্থায়ী হয় । এছাড়া রোগী মাসিকের সময় স্তনে ফোলাভাব এবং ব্যাথা অনুভব করেন। মাসিকের সময় শরীরে ছোট ছোট লাল ফোঁড়া বা উদ্ভেদ দেখা দিতে পারে ৷ মাসিকের সময়ে যোনিতে চুলকানি দেখা দিয়ে থাকে ৷

Oleum Jec : রোগীর শরীরে বা মুখে অবাঞ্ছিত চুলসহ অনিয়মিত মাসিকের ক্ষেত্রে Oleum Jec একটি চমৎকার ঔষধ ৷
কোনো কারনে মাসিক চাপা পড়লে সেটিকে পুণরায় নিয়মিত করতে Oleum Jec একটি আদর্শ হোমিওপ্যাথিক ঔষধ । তদুপরি,এটি মাসিকের রক্ত প্রবাহকে আরো উন্নত করে ৷ মহিলাদের মুখে চুলের ক্ষেত্রে এই ওষুধটি ব্যাপকভাবে কাজ করে। রোগীর ডিম্বাশয়ে ব্যথা হতে পারে। সবশেষে, রোগীর মাসিকের সময় ব্যাথা থাকতে পারে।

দ্রষ্টব্য: এখানে উল্লিখিত ওষুধগুলি শুধুমাত্র তথ্যের উদ্দেশ্যে। দয়া করে ডাক্তারের পরামর্শ ব্যাতীত নিজে ওষুধ খাবেন না।

Leave a Reply